ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বিস্ময়কর
বস্তু হল মানবদেব। এই দেহের মধ্যে আছে কতগুলি স্বয়ংক্রিয় সূক্ষ্ম মহাশক্তিশালী
যন্ত্র। যেমন – হ্রদয়যন্ত্র ও ফুসফুস – যারা বিরাহীন একটি পাম্প ম্যাসিন, চোখ –
একটি বিস্ময়কর ক্যামেরা, কান – এক আশ্চর্য শব্দ যন্ত্র, পেট – এক চমৎকার রাসায়নিক
গবেষণাগার, স্নায়ু – বহু মাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা, মস্তিষ্ক – অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন এক
অদ্বিতীয় কম্পিউটার। আর সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হল এই যন্ত্রগুলি অবিশ্বাস্যভাবে
এক সাথে কাজ করতে পরে শতাধিক বছর ধরে। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হল আমরা যে সমস্ত
ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহার করি তারা যেমন একবার সুইচ টিপলে চালু হয় আবার সুইচ টিপলে
বন্ধ হয় অর্থাৎ সুইচ টিপে তাদের যেমন নিয়ন্ত্রন করা যায় ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের
শরীরকেও নিয়ন্ত্রন করা যায়। প্রকৃতি আমাদের শরীরে এমন ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যে
আমরা তার দ্বারা এই যন্ত্রগুলিকে দেখাশুনা ও প্রয়োজন হলে মেরামতিও করতে পারি। এই অন্তর নির্মিত ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে যে
চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রচলিত হয়েছে তাকে বলা হয় অ্যাকুপ্রেশার চিকিৎসা।
আনুমানিক, ৫০০০ হাজার বছর আগে থেকেই ভারতবর্ষে এই চিকিৎসা পদ্ধতি
প্রচলিত ছিল। তারপর এটি প্রথমে শ্রীলাঙ্কা পরে চিন ও জাপান হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে
পরে। কুড়ির দশকে আমেরিকায় এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয় যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডাঃ
উইলিয়ম ফ্রিটজজেরালড্। তার প্রচেষ্টাতেই এই চিকিৎসা ব্যবস্থা একটি নতুন রুপ পায়
এবং সারা বিশ্বে এর চাহিদা বাড়তে শুরু করে। এমনকি বর্তমানে এই সহজ সরল চিকিৎসা
পদ্ধতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে এবং সারা বিশ্বে এটি অন্যান্য মূল চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে এটিকে যুক্ত করা হয়েছে।
ধীরে ধীরে মেডিকেল সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একে পাঠ্য সূচীর অন্তর ভুক্ত করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীগণ, আপনাদের প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার মনে রাখতে হবে যে – অ্যাকুপ্রশার
শব্দটির দুটি মানে হয় – একটি সমুদয়গত আর অন্যটি বিষয়গত। সমুদয়গত কথাটির মানে হলো –হতে ও পায়ের রিফ্লেক্সোপয়েন্টের পাশাপাশি পুরো শরীরের
১৪টি মেরিডিয়ান পয়েন্ট এমনকি কানের অরিকোলজির কথাও বুঝাতে পারে। অন্যদিকে বিষয়গত শব্দটির
মানে হলো কেবল হাতের রিফ্লেক্সো পয়েন্ট। এখানে শুধু হাতের রিফ্লেক্সো পয়েন্ট নিয়েই
আলোচনা করা হয়েছে বা বিষয়গত আলোচনা । হাতের রিফ্লেক্সো পয়েন্টের মাধ্যমে যে সমস্ত সমস্যার
চিকিৎসা করা যায়।



0 Comments